বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রেমের গানের সঙ্গে নায়করাজ রাজ্জাকের নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। পর্দায় তার উপস্থিতি যেমন প্রেমের গল্পকে পূর্ণতা দিয়েছে, তেমনি তার অভিনীত সিনেমার সুরগুলো হয়ে উঠেছে ভালোবাসার চিরচেনা অনুষঙ্গ। সময় বদলেছে, সিনেমার ভাষা ও নির্মাণশৈলীতে এসেছে পরিবর্তন, কিন্তু সেই গানগুলোর আবেদন আজও ফুরোয়নি। প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতার মনে রাজ্জাকের সিনেমার সেইসব প্রেমের গান আজও সমানভাবে বেঁচে আছে। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট ৭৫ বছর বয়সে এই কিংবদন্তি অভিনেতা আমাদের ছেড়ে চলে যান। তার নবম প্রয়াণদিবসে ফিরে দেখা যাক তার অভিনীত সিনেমার ১০টি কালজয়ী প্রেমের গান।
‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে’—এই গানটির কথা শুনলেই মনে পড়ে এহতেশাম পরিচালিত ‘পিচ ঢালা পথ’ সিনেমার কথা। রাজ্জাক ও ববিতার পর্দার রসায়নের সঙ্গে শাহনাজ রহমতউল্লাহর কণ্ঠে গাওয়া এই গানটি দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের কথায় গানটির সুর করেছিলেন রবীন ঘোষ। সেই সময়ের প্রেমের গানগুলোর সরলতা ও মাধুর্য আজও গানটিকে শ্রুতিমধুর করে রেখেছে।
ভালোবাসার সাক্ষী হিসেবে আকাশকে কল্পনা করার রোমান্টিক ভাবনা উঠে এসেছে ‘এ আকাশকে সাক্ষী রেখে’ গানে। সাইফুল আযম কাশেম পরিচালিত ‘সোহাগ’ সিনেমায় রাজ্জাক ও ববিতার জুটির রোমান্টিক আবহকে গানটি আরও গভীর করে তুলেছিল। খুরশীদ আলমের গাওয়া এই গানটির গীতিকার ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং সুরকার আলী হোসেন।
প্রেমের সিনেমা হিসেবে ‘অবুঝ মন’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে বিশেষভাবে স্মরণীয়। কাজী জহির পরিচালিত এই সিনেমায় রাজ্জাক ও শাবানার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। আব্দুল জব্বারের কণ্ঠে ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’ গানটি আজও মানুষের আবেগের অংশ হয়ে আছে। গানটির সুরকার ছিলেন আলতাফ মাহমুদ।
কিছু গান সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না, যেমন ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’। নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘স্বরলিপি’ সিনেমার এই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন রুনা লায়লা। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথায় গানটির সুর করেছেন সুবল দাস। রাজ্জাকের অভিনয় এবং গানের আবেগ মিলেমিশে সিনেমাটির রোমান্টিক আবহকে সমৃদ্ধ করেছিল।
স্মৃতি ও অনুভূতির মিশেলে তৈরি ‘ছবি যেন শুধু ছবি নয়’ গানটি মোস্তফা মেহমুদ পরিচালিত ‘মানুষের মন’ সিনেমার। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথায় ও সত্যসাহা’র সুরে খুরশীদ আলমের কণ্ঠে এই গানটি রাজ্জাকের রোমান্টিক গানের তালিকায় আলাদা স্থান করে নিয়েছে। প্রিয় মানুষের মুখ আয়নায় দেখার কল্পনা নিয়ে তৈরি ‘আয়নাতে ওই মুখে দেখবে যখন’ গানটি অশোক ঘোষের ‘নাচের পুতুল’ সিনেমার। মাহমুদুন্নবীর গাওয়া এই গানে রাজ্জাকের সঙ্গে ছিলেন শবনম। গানটির গীতিকার কে জি মোস্তফা এবং সুরকার রবীন ঘোষ।
চোখে চোখ পড়ার চিরন্তন অনুভূতি নিয়ে তৈরি ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’ গানটি রাজ্জাক ও ববিতা অভিনীত আলোচিত সিনেমা ‘অনন্ত প্রেম’-এর। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথায় ও আজাদ রহমানের সুরে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন খুরশীদ আলম ও সাবিনা ইয়াসমিন। অন্যদিকে, ‘গীতিময় সেইদিন চিরদিন’ গানটির মধ্যে রয়েছে পুরোনো দিনের স্মৃতি ধরে রাখার আকুতি। এসএম শফি পরিচালিত ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’ সিনেমার এই গানটি গেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন, যার সুর করেছেন আনোয়ার পারভেজ।
ভালোবাসায় পড়ার মুহূর্তটা অনেক সময় অজানা থাকে, যা ফুটে উঠেছে ‘আমি নিজের মনে নিজেই যেন গোপনে ধরা পড়েছি’ গানে। সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘আবির্ভাব’ সিনেমার এই গানটি গেয়েছেন খন্দকার ফারুক আহমেদ। এছাড়া, ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার আনন্দ নিয়ে তৈরি ‘আমি ধন্য হয়েছি ধন্য’ গানটি দিলীপ সোম পরিচালিত ‘সোনা বৌ’ সিনেমার। সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে এই গানটির সুর করেছেন আনোয়ার পারভেজ।
রাজ্জাকের অভিনীত সিনেমার এই গানগুলো কেবল সুর নয়, বরং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একটি সময়ের দলিল। সেই সময়, যখন সিনেমার গান মানুষের জীবনের সাথে মিশে যেত। পর্দায় রাজ্জাকের চোখের ভাষা ও অভিব্যক্তি গানগুলোকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেত। সময়ের স্রোতে মানুষ চলে যায়, কিন্তু গানের ভেতর দিয়ে কিংবদন্তিরা বেঁচে থাকেন। রাজ্জাক তেমনই একজন, যার উপস্থিতি বাংলা সিনেমার প্রেমের গানে আজও অমলিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাহফুজ আনামের কলাম / বিএনপির পরবর্তী মহাসচিবের কাছে যেসব প্রত্যাশা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজ্জাক অভিনীত সিনেমার কালজয়ী ১০ প্রেমের গান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন যেভাবে হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আলাস্কায় উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন সব যাত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আত্মতুষ্ট নন শান্ত, ‘ওটা পাস্ট হয়ে গেছে’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চোখে চোখ পড়া থেকেই কখনো কখনো শুরু হয় ভালোবাসার গল্প।
সূত্র: ডেইলি স্টার বাংলা


মন্তব্য